সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণত বিপুলসংখ্যক প্রার্থী অংশ নেন। ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে মোট ১৪,৩৮৫টি পদের বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার আবেদন জমা পড়ে। প্রথম ধাপে ১০,২১৯টি পদের বিপরীতে ৭,৪৫,৯২৯টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৪,১৬৬টি পদের বিপরীতে ৩,৩৪,১৫১টি আবেদন জমা পড়ে। এই প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো অবস্থান তৈরির জন্য পরীক্ষার বর্তমান মানবণ্টন বুঝে পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বর ৯০। এর মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে রয়েছে ৫০ নম্বর। তাই বিগত বছরের প্রশ্নের ধরন বিশ্লেষণের পাশাপাশি বর্তমান মানবণ্টন অনুযায়ী প্রস্তুতির সময় ও গুরুত্ব ভাগ করা দরকার। এই লেখায় পরীক্ষার বর্তমান মানবণ্টন, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, পড়ার কৌশল, অনুশীলন এবং পরীক্ষার দিনের সময় ব্যবস্থাপনা সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বর্তমান মানবণ্টন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা রয়েছে। বিধিমালায় উল্লেখিত মানবণ্টন অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বর ৯০ এবং সময় ৯০ মিনিট। বাংলা ২৫, ইংরেজি ২৫, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান ২০ এবং সাধারণ জ্ঞান ২০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৪৫ নম্বর অর্জন করতে হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিতরা ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। মৌখিক পরীক্ষায়ও ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার শর্ত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নিয়োগ নির্দেশনা।
| বিষয় | নম্বর |
|---|---|
| বাংলা | ২৫ |
| ইংরেজি | ২৫ |
| গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান | ২০ |
| সাধারণ জ্ঞান | ২০ |
| মোট লিখিত | ৯০ |
| মৌখিক পরীক্ষা | ১০ |
| সর্বমোট | ১০০ |
এই মানবণ্টনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলা ও ইংরেজির সম্মিলিত গুরুত্ব। মোট লিখিত নম্বরের ৫০ নম্বরই এই দুই বিষয়ে। ফলে কেবল সাধারণ জ্ঞান বা গণিতে বেশি সময় দিয়ে ভাষার অংশ অবহেলা করলে ভালো অবস্থান তৈরি করা কঠিন হতে পারে।
সাম্প্রতিক নিয়োগ পরীক্ষা থেকে কী বোঝা যায়
২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের অন্যান্য জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী ৬৯,২৬৫ জন প্রার্থী পরবর্তী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। সাম্প্রতিক এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আবেদন ও ফলাফলের তথ্য থেকে বোঝা যায়, বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফল করা পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ও ফলাফল।
বাংলা বিষয়ে ২৫ নম্বরের প্রস্তুতি
বাংলার প্রস্তুতিকে ব্যাকরণ ও সাহিত্য এই দুই অংশে ভাগ করলে পড়া সহজ হয়। ব্যাকরণে সন্ধি, সমাস, কারক ও বিভক্তি, শুদ্ধ বানান, বাক্য শুদ্ধি, এককথায় প্রকাশ, বাগধারা, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, উপসর্গ, প্রত্যয় এবং শব্দের শ্রেণিবিভাগ নিয়মিত অনুশীলন করা দরকার। সাহিত্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাহিত্যিক, তাঁদের রচনা, উপাধি, সাহিত্যকর্ম এবং বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সময় ও ঘটনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।
বাংলায় ভালো করার কার্যকর উপায় হলো শুধু তথ্য মুখস্থ না করে প্রশ্ন সমাধানের মাধ্যমে দুর্বল অংশ শনাক্ত করা। যেমন শুদ্ধ বানানে বারবার ভুল হলে আলাদা একটি খাতায় ভুল হওয়া শব্দগুলো লিখে নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করা যায়। এতে অল্প সময়ে নিজের দুর্বল জায়গায় উন্নতি করা সম্ভব।
ইংরেজি বিষয়ে ২৫ নম্বরের প্রস্তুতি
ইংরেজির প্রস্তুতিতে গ্রামার ও শব্দভান্ডারে নিয়মিত অনুশীলন করা গুরুত্বপূর্ণ। পার্টস অব স্পিচ, টেন্স, ভয়েস, ন্যারেশন, সাবজেক্ট ভার্ব এগ্রিমেন্ট, প্রিপজিশন, আর্টিকেল, ডিগ্রি, রাইট ফর্ম অব ভার্ব এবং বাক্য সংশোধনের নিয়ম ভালোভাবে অনুশীলন করা দরকার। পাশাপাশি সিনোনিম, অ্যান্টোনিম, সঠিক বানান, ইডিয়ম এবং গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ নিয়মিত পড়লে শব্দভান্ডারের প্রস্তুতি শক্তিশালী করা যায়।
ইংরেজিতে অনেক প্রার্থী নিয়ম পড়লেও প্রশ্নে সেটি প্রয়োগ করতে সমস্যায় পড়েন। তাই প্রতিটি নিয়ম শেখার পর অন্তত কয়েকটি সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন সমাধান করা বেশি কার্যকর। ভুল হওয়া প্রশ্নের সঠিক নিয়ম লিখে রাখলে একই ধরনের ভুল বারবার হওয়ার আশঙ্কা কমে।
গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞানের ২০ নম্বর কীভাবে প্রস্তুত করবেন
গণিতে পাটিগণিতের ভিত্তি শক্ত রাখা জরুরি। শতকরা, লাভ ক্ষতি, অনুপাত ও সমানুপাত, ঐকিক নিয়ম, গড়, সুদ, সময় ও কাজ, দূরত্ব ও গতি, বয়স এবং মৌলিক সংখ্যাতত্ত্বের সমস্যা নিয়মিত অনুশীলন করা উচিত। পাশাপাশি বীজগণিতের মৌলিক সূত্র এবং জ্যামিতির গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ও সূত্রও প্রস্তুতিতে রাখতে হবে।
দৈনন্দিন বিজ্ঞানে মানবদেহ, খাদ্য ও পুষ্টি, রোগ প্রতিরোধের মৌলিক ধারণা, পদার্থ ও শক্তি, আলো, শব্দ, বিদ্যুৎ, পরিবেশ, উদ্ভিদ ও প্রাণী, পৃথিবী, সৌরজগৎ এবং দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন তথ্য মুখস্থ করার পরিবর্তে কারণ ও ফলাফলের সম্পর্ক বুঝে পড়লে দীর্ঘদিন মনে থাকে।
সাধারণ জ্ঞানের ২০ নম্বরের প্রস্তুতি
সাধারণ জ্ঞানের নির্ধারিত অংশে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি রয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধানের মৌলিক বিষয়, জাতীয় প্রতিষ্ঠান, ভূগোল, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। আন্তর্জাতিক অংশে বিভিন্ন দেশ ও রাজধানী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সদর দপ্তর, গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক বিষয় এবং সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে গুরুত্ব দেওয়া যায়।
সাধারণ জ্ঞানের পরিধি তুলনামূলকভাবে বড়। তাই সব বিষয় সমানভাবে পড়ার পরিবর্তে স্থায়ী সাধারণ জ্ঞান ও সাম্প্রতিক তথ্য আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়া কার্যকর হতে পারে। সাম্প্রতিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে পরীক্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলো বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে যাচাই করে পড়া ভালো।
প্রতিদিনের প্রস্তুতি কীভাবে সাজাবেন
প্রস্তুতিতে ঘণ্টার সংখ্যার চেয়ে ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন চারটি বিষয়ই অল্প করে স্পর্শ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বাংলা ও ইংরেজিতে তুলনামূলক বেশি সময়, গণিত ও বিজ্ঞানে সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট সময় এবং সাধারণ জ্ঞানের জন্য আলাদা সময় রাখা যায়। সপ্তাহে অন্তত একটি দিন আগের পড়া পুনরাবৃত্তি ও পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনী পরীক্ষার জন্য রাখলে অগ্রগতি বোঝা সহজ হয়।
বিগত বছরের প্রশ্ন কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিগত প্রশ্ন কেবল মুখস্থ করার উপকরণ নয়। এগুলো ব্যবহার করে কোন অধ্যায় থেকে কী ধরনের প্রশ্ন আসে, নিজের কোন অংশ দুর্বল এবং একটি প্রশ্ন সমাধানে কত সময় লাগছে তা বোঝা যায়। প্রথমে বিষয়ভিত্তিক পুরোনো প্রশ্ন সমাধান করুন। মৌলিক প্রস্তুতি শেষ হলে নির্ধারিত সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নপত্র সমাধান করুন। প্রতিটি অনুশীলনের পর ভুল প্রশ্ন বিশ্লেষণ করাই উন্নতির সবচেয়ে কার্যকর ধাপগুলোর একটি।
৯০ মিনিটের পরীক্ষার জন্য সময় ব্যবস্থাপনা
৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার জন্য সময় ৯০ মিনিট। তাই শুরু থেকেই সময় পরিকল্পনা করে প্রশ্ন সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ। সব প্রশ্নে সমান সময় ব্যয় না করে সহজ ও নিশ্চিত প্রশ্নগুলো আগে সমাধান করলে তুলনামূলক কঠিন প্রশ্নের জন্য সময় রাখা যায়। গণিতের কোনো প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় আটকে না থেকে সেটি পরে সমাধানের জন্য রেখে দেওয়া ভালো। শেষ কয়েক মিনিট উত্তরপত্র ও বাদ পড়া প্রশ্ন যাচাইয়ের জন্য রাখার অভ্যাস অনুশীলনের সময় থেকেই তৈরি করা যেতে পারে।
শুধু পাস নম্বরকে লক্ষ্য করা কেন যথেষ্ট নয়
লিখিত পরীক্ষায় ৪৫ নম্বর পেলে বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী ন্যূনতম উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত পূরণ হয়। তবে ন্যূনতম পাস নম্বর অর্জন করা চূড়ান্ত নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেয় না। এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রগতি ও চূড়ান্ত নির্বাচন প্রযোজ্য নিয়োগবিধি, পরীক্ষার ফল এবং অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। তাই প্রস্তুতির লক্ষ্য কেবল পাস নম্বর নয়, যতটা সম্ভব নির্ভুলভাবে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হওয়া উচিত।
মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি কখন শুরু করবেন
মৌখিক পরীক্ষার জন্য লিখিত ফল প্রকাশের পরই সব প্রস্তুতি শুরু করা ঠিক নয়। নিজের পরিচয়, শিক্ষাগত বিষয়, নিজ জেলা ও উপজেলা, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং একজন প্রাথমিক শিক্ষকের দায়িত্ব সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা রাখা যায়। উত্তর দেওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ বক্তব্যের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক উত্তর দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উপকারী।
প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা কত নম্বরের?
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা ৯০ নম্বরের। এর মধ্যে বাংলা ২৫, ইংরেজি ২৫, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান ২০ এবং সাধারণ জ্ঞান ২০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রার্থীরা ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।
২. লিখিত পরীক্ষার সময় কত?
লিখিত পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট সময় নির্ধারিত। অর্থাৎ ৯০ নম্বরের জন্য মোট দেড় ঘণ্টা পাওয়া যায়। তাই বাসায় প্রস্তুতির সময় থেকেই ৯০ মিনিট ধরে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনী পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস করলে সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।
৩. লিখিত পরীক্ষায় পাস করতে কত নম্বর প্রয়োজন?
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন। ৯০ নম্বরের পরীক্ষায় এটি ৪৫ নম্বর। তবে এই নম্বর ন্যূনতম উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত; চূড়ান্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপ ও প্রযোজ্য বিধিমালার ওপর নির্ভর করে।
৪. কোন দুটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি নম্বর রয়েছে?
বাংলা ও ইংরেজিতে ২৫ নম্বর করে রয়েছে। দুটি বিষয় মিলিয়ে মোট ৫০ নম্বর, যা ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার অর্ধেকেরও বেশি। তাই নতুন মানবণ্টন অনুযায়ী এই দুই বিষয়ে শক্ত ভিত্তি তৈরি করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
৫. গণিতে দুর্বল হলে কীভাবে প্রস্তুতি শুরু করব?
প্রথমে শতকরা, অনুপাত, গড়, ঐকিক নিয়ম, লাভ ক্ষতি এবং সময় ও কাজের মতো মৌলিক অধ্যায় দিয়ে শুরু করা ভালো। প্রতিটি অধ্যায়ের সূত্র বোঝার পর সহজ প্রশ্ন থেকে কঠিন প্রশ্নে যেতে হবে। প্রতিদিন অল্পসংখ্যক হলেও নিজে হিসাব করে প্রশ্ন সমাধান করা জরুরি।
৬. সাধারণ জ্ঞানের জন্য কি প্রতিদিন সংবাদ পড়া দরকার?
সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার জন্য নিয়মিত বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম অনুসরণ করা উপকারী। তবে শুধু সাম্প্রতিক সংবাদ পড়লে সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয় না। বাংলাদেশের ইতিহাস, সংবিধান, ভূগোল এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী সাধারণ জ্ঞানও প্রস্তুত করতে হবে। সরকারি নীতি, পরিসংখ্যান বা প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের ক্ষেত্রে সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা মূল উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা ভালো।
৭. বিগত বছরের প্রশ্ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
বিগত প্রশ্ন অত্যন্ত কার্যকর, কারণ এগুলো পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বুঝতে সাহায্য করে। তবে শুধু উত্তর মুখস্থ করা উচিত নয়। কোন ধারণার ওপর প্রশ্নটি তৈরি হয়েছে সেটি বুঝে একই বিষয়ের নতুন প্রশ্ন সমাধানের সক্ষমতা তৈরি করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
৮. প্রতিদিন কত ঘণ্টা পড়লে ভালো প্রস্তুতি হবে?
সবার জন্য নির্দিষ্ট একটি সময় কার্যকর নয়। কারও মৌলিক প্রস্তুতি ভালো হলে কম সময়েও অগ্রগতি হতে পারে, আবার দুর্বল ভিত্তি থাকলে বেশি সময় প্রয়োজন। বাস্তবসম্মত দৈনিক রুটিন তৈরি করে নিয়মিত পড়া, প্রশ্ন সমাধান এবং পুনরাবৃত্তি করাই ঘণ্টা গোনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৯. মৌখিক পরীক্ষা কত নম্বরের এবং পাস নম্বর কত?
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষা ১০ নম্বরের এবং এতে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৫ নম্বর পাওয়ার শর্ত রয়েছে। তাই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজের শিক্ষাগত বিষয়, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং একজন প্রাথমিক শিক্ষকের দায়িত্ব সম্পর্কে মৌলিক ধারণা তৈরি রাখা উপকারী।
১০. নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এলে মানবণ্টন আবার যাচাই করা দরকার কি?
অবশ্যই। এই লেখার মানবণ্টন ২০২৫ সালের নিয়োগ বিধিমালা ও সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কাঠামোর ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার বিধিমালা, পরীক্ষার পদ্ধতি বা অন্য কোনো শর্ত সংশোধন করতে পারে। তাই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা অবশ্যই যাচাই করা উচিত।
তথ্য যাচাই ও হালনাগাদ
এই লেখার পরীক্ষার মানবণ্টন ও যোগ্যতা-সংক্রান্ত তথ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়োগ নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। নিয়োগবিধি বা পরীক্ষার কাঠামো পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন বা পরীক্ষার প্রস্তুতির আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করুন।
উপসংহার
প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো প্রস্তুতির জন্য বড় বইয়ের তালিকার চেয়ে বর্তমান মানবণ্টন বুঝে পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজিতে ২৫ নম্বর করে এবং গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞানে ২০ নম্বর করে বরাদ্দ রয়েছে।
নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা, বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ, ভুলের তালিকা তৈরি, পুনরাবৃত্তি এবং নির্ধারিত সময়ে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করতে পারে। ভবিষ্যতে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনাকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে অনুসরণ করা উচিত।



